আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
চট্টগ্রামে নালায় পড়ে মৃত্যু: বাসিন্দারা বলছেন নালাগুলো যেন 'মৃত্যুফাঁদ'
- Author, ফারহানা পারভীন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
- Published
বন্দর নগরী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী সোমবার রাত ১০টার দিকে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পা পিছলে পাশের একটি নালায় পড়ে যান।
এর প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম দমকল বাহিনী।
চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আগ্রাবাদ শাখার সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ এনামুল হক বলছেন, তিনি নিজে ঐ উদ্ধার অভিযানে ছিলেন।
মি. হক বলেন, মেয়েটি রাতে হেঁটে ঐ নালার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যান। ফায়ার সার্ভিস প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
চট্টগ্রামে অগাস্ট মাসের ২৫ তারিখে মুরাদপুরে আরেকজন ব্যক্তি নালার মধ্যে পড়ে যান। এক মাসের বেশি সময় পার হতে চলেছে কিন্তু এখনো ঐ ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন:
দমকল বাহিনী বলছে তারা হাল ছেড়ে দেন নি। এখন একটি টহল টিম কাজ করছে । এছাড়া আশেপাশের এলাকার লোকজনকে জানানো হয়েছে তারা যদি কোন আলামত দেখেন তাহলে কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য।
এদিকে জুন মাসে আরো দুজন ব্যক্তি নালায় পড়ে যান। তাদেরকে পরে উদ্ধার করা হয়। এই তিনটা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন মোহাম্মদ এনামুল হক।
তিনি বলছিলেন, শহরের মধ্যে এই শাখা নালাগুলো বেশ প্রশস্ত এবং উন্মুক্ত। এই নালাগুলো রাস্তা থেকে বেশ গভীর, বর্জ্যে ঠাসা। একই সঙ্গে এগুলো গিয়ে মিশেছে মূল নালার সঙ্গে, যা প্রধান সড়কের নিচে। সুতরাং এখানে কেউ পড়লে বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা থেকে যায়।
"চট্টগ্রামে যখন বৃষ্টি হয় তখন রাস্তা এবং নালাগুলো আলাদা করা যায় না। ওই তিনটি ঘটনার সময় প্রচণ্ড বৃষ্টি ছিল এবং পানির স্রোত ছিল। উদ্ধারকাজে যারা ছিলেন তারা বেশিক্ষণ সেখানে থাকতে পারেন নি। কারণ এতে করে তাদের ঝুঁকি তৈরি হত," বলেন মি. হক।
মানুষের ক্ষোভ
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নতুন কিছু নয়।একটু বৃষ্টি হলেই শহরের প্রধান প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
আগ্রাবাদের একজন বাসিন্দা ফারজানা ইয়াসমিন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, "এই ড্রেনগুলো এখন মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছে। আমরা রিক্সায় থাকি কিম্বা হেঁটে যাই - যেভাবেই রাস্তা দিয়ে যাই না কেন অন্যান্য দুর্ঘটনার পাশাপাশি এখন এই ড্রেনে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বিরাট ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে।"
শহরের আরেকজন বাসিন্দা নুপুর মন্ডল বলেন, "গতকালের ঘটনা খুব ভয়াবহ। একবার পড়লে নিমিষে তলিয়ে যাচ্ছে মানুষ। যদি ড্রেনগুলো ঢাকা থাকে তাহলে হয়ত দুর্ঘটনা ঠেকানো যেত।"
কী বলছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন:
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামের রাস্তার পাশে নালা ব্যবস্থাপনা এবং এই দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল আলম বলছেন, শহরের মধ্যে এই ড্রেনগুলোর বর্জ্য পরিস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রকল্প চালু আছে।
তিনি বলেন, "এই কাজগুলো শেষ হলে ড্রেন বা নালাগুলো ঢেকে দেয়ার কাজ করা হবে পর্যায়ক্রমে।"
তবে শহরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কতগুলো নালা আছে তার কোনো হিসেব দিতে পারেন নি তিনি।