ভাসান চরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে করে যাত্রা শুরু করেছে রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিয়ে চট্টগ্রামে যাচ্ছে বাসগুলো।

ছবির উৎস, Md Jamal Photography

ছবির ক্যাপশান, রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিয়ে চট্টগ্রামে যাচ্ছে বাসগুলো।
Published

কক্সবাজারের কয়েকটি শরণার্থী ক্যাম্প থেকে এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বাসে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন একটি ক্যাম্পের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা একজন কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গাদের চট্টগ্রামে নিয়ে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে তাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে।

"ভাসানচরের উদ্দেশ্যে আজ যেসব রোহিঙ্গা পরিবার যাত্রা করেছেন তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেরা সেখানে যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকে কিছুটা দোটানায় থাকলেও ভাসানচরের ছবি, ভিডিও দেখে মত পরিবর্তন করে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন", বলেন ঐ কর্মকর্তা।

রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য অপেক্ষারত বাস।

ছবির উৎস, Md Jamal Photography

ছবির ক্যাপশান, রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য অপেক্ষারত বাস।

কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার দিনেই দুইটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশের সরকারের উচিত একটি স্বচ্ছ স্থানান্তর প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শরণার্থীদের বুঝে-শুনে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এবং দ্বীপটিতে যাওয়া-আসার অনুমতি সাপেক্ষে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

সেই সাথে জাতিসংঘের আহ্বান অনুযায়ী একটি স্বাধীন কারিগরি এবং সুরক্ষা বিষয়ক মূল্যায়ন পরিচালনা করা উচিত।

আরো পড়ুন:

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ছবির উৎস, Md Jamal Photography

ছবির ক্যাপশান, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দাবি করেছে যে, ভাসান চরে স্থানান্তর করা হবে এমন অন্তত ১২টি পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন তারা। যাদের নাম তালিকায় রয়েছে। কিন্তু তারা স্বেচ্ছায় স্থানান্তর হতে চান না বলে মানবাধিকার সংস্থাটিকে জানিয়েছেন। এই তালিকায় থাকা কিছু শরণার্থী জোর করে স্থানান্তরিত হওয়ার ভয়ে পালিয়েছেন বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।

এর আগে ২রা ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ বলে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে জাতিসংঘ অবগত থাকলেও শরণার্থীদের স্থানান্তর প্রস্তুতি কিংবা তাদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংস্থাটিকে যুক্ত করা হয়নি।

ডিসেম্বর মাসেই আগ্রহী রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ সরকারের।